ঢাকায় স্টারলিংকের পরীক্ষামূলক ইন্টারনেট সেবা, গতি কত?

শেয়ারবাজার ডেস্ক : বাংলাদেশে ইলন মাস্কের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংকের পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ৯ এপ্রিল। এর মধ্যদিয়ে উচ্চগতি, নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করবে বাংলাদেশ।
অবশ্য এরইমধ্যে রাজধানী ঢাকার এক হোটেলে স্টারলিংক ইন্টারনেটের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের ইন্টারনেট স্পিড টেস্টের ফলাফল শেয়ার করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তাতে দেখা গেছে, ইন্টারনেটের চমকপ্রদ গতি।
শফিকুল আলমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেয়ার করা স্টারলিংক ইন্টারনেটের পরীক্ষামূলক স্পিড টেস্টের ছবিটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সেখানে ডাউনলোড স্পিড ২৩০ এমবিপিএস এবং আপলোড স্পিড ২০ এমবিপিএস।
ঢাকার একটি হোটেলে পরিচালিত এ পরীক্ষায় ইন্টারনেটের ল্যাটেন্সি ছিল ৫০-৫৩এমএস (মিলিসেকেন্ড)৷ এ স্পিড টেস্টের সময় স্টারলিংকের সার্ভার ছিল সিঙ্গাপুর ও হংকংয়ে এবং ক্লায়েন্ট লোকেশন দেখানো হয়েছে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর।
প্রেস সচিবের শেয়ার করা স্টারলিংকের গতি সংবলিত তথ্যের ফটোকার্ডটি শেয়ার করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, আজকের ঘটনা! সবাই অসম্ভব দ্রুততার সাথে কাজ করছে। টিম প্রফেসর ইউনূস!
স্পেসএক্সের মালিকানাধীন স্টারলিংক মূলত লো-আর্থ অরবিট (এলইও) স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ইন্টারনেট পরিষেবা দিয়ে থাকে। এটি বিশেষ করে দুর্গম ও গ্রামীণ অঞ্চলে উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সক্ষম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে এখনও অনেক প্রত্যন্ত এলাকায় ফাইবার অপটিক বা ব্রডব্যান্ড সংযোগ পৌঁছায়নি, সেখানে স্টারলিংক একটি সম্ভাবনাময় সমাধান হয়ে উঠতে পারে।
গত ২৩ মার্চ রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিনিয়োগের জন্য যোগাযোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতে স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু হবে। ৯০দিন পর এটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হবে।
তিনি বলেন, ৭ এপ্রিল থেকে ঢাকায় চারদিনের বিনিয়োগ সম্মেলন শুরু হবে। সেই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে ৯ এপ্রিল। সকালে ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সেদিনই স্টারলিংকের ব্যবহারও শুরু হবে।
স্টারলিংকের ইন্টারনেট সেবা ব্যবহার করে ৯ এপ্রিল থেকে সম্মেলনের সবগুলো ইভেন্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার করা হবে। সম্মেলনে ৫০টিরও বেশি দেশ থেকে ৫৫০জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন। বাংলাদেশ থেকে ২ হাজার প্রতিনিধি থাকবেন।
এর আগে ১৩ ফেব্রুয়ারি ইলন মাস্কের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে বাংলাদেশে ইন্টারনেট পরিষেবা স্টারলিংক চালু করার জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পরে তিনি একটি চিঠিতে ইলন মাস্ককে বাংলাদেশ সফরের জন্যও আমন্ত্রণ জানান।